লেখক: এস এম জাফর ছাদেক আল আহাদী
হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিশিষ্ট খলীফা গাউসে যমান শায়খুল ইসলাম আল্লামা সৈয়্যদ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি যে, প্রথম দিকে হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ত্বরীক্বা-দর্শনের বিরোধী ছিলেন তা অনেকেই অবহিত। পরন্তু ‘তাওজীহাতুল বহিয়্যাহ্’ গ্রন্থের পরিশিষ্টে ‘সামা’ বিষয়ক আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি স্বয়ং উল্লেখ করেন- “আমাদের প্রশংসিত মুর্শিদ (হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী রাদ্বি.) এর সান্নিধ্যে পৌঁছার পূর্বে ঐ (সামা) বিষয়ে আমিও বিরোধী ছিলাম; কেননা তখন আমার অন্তর ইশকের মর্ম শূন্য ছিল। ইতোপূর্বে তাঁর মুরীদগণ থেকে যে কেউ তা শ্রবণ করলে তার কঠোর বিরোধিতা আমি করেছি। কিন্তু আমি অবাক হই যে, তারা শেষ সীমার প্রেমবিভোরতা সহকারে তা শ্রবণ করছে, তাদের বিগলিত অন্তর তাতে ভাসাচ্ছে এবং তা শ্রবণকালে দোলায়িত হচ্ছে। অথচ তারা বিবেক সম্পন্ন, বরং তাদের মধ্যে বহু সংখ্যক আলেমও রয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আমাকে যখন তাঁর মুরীদ হয়ে তদীয় ত্বরীক্বায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তৌফিক দান করেন এবং তিনি যখন দানের দৃষ্টি যোগে আমার প্রতি দৃষ্টি দেন, তখন তাঁদের অবস্থার মৌলিকত্ব আমার অন্তরে উদঘাটিত হয়েছে, বাদ্য বাজনার যে রহস্য আল্লাহ তা‘আলা গচ্ছিত রেখেছেন এবং মুরীদগণের জন্য সামা’র মধ্যে যে উপকারাদি রয়েছে সে জ্ঞানও আমার অর্জিত হয়। এতে আল্লাহ তা‘আলার অশেষ শোকর।”

Visit here for details.

কিসের টানে তিনি ছুটে গেলেন মাইজভাণ্ডার শরীফ? এর কিঞ্চিৎ বিবরণ তাঁর ভাষায় ‘তোহ্ফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ভূমিকায় বিবৃত-
“শুন সবে কহি এবে যত দ্বীনদার, কে বলিতে পারে খুবি এই জামানার।
এই জামানাতে নিরঞ্জন দয়াময়, হিদায়ত পন্থ খুলিয়াছে নিঃসংশয়।
মারিফত-দিবাকর উদিত হইল, যাহার আলো দীপ্তি সর্বত্র পড়িল।
মাইজভাণ্ডার শরীফ তাহা উদয়ের স্থান আলোকিত করিয়াছে তামাম জাহান।
যাহাদের নসিব ভাল দৃঢ়চিত্তজন,
সেই দীপ্তিময় নূর করে আহরণ।
অনেক আফসোস হয় সে সব কারণ,
চামচিকা যেন নারে দেখিতে কিরণ।
তে কারণে সেই দীপ্তিময় নূর তরে,
আহরণ করিবারে কখনো না পারে।”
অতঃপর ভাষান্তরে তাঁর চাক্ষুষ জ্ঞানের অভিব্যক্তি- “অতএব আল্লাহ তা‘আলার অশেষ শোকরিয়া যে, তাঁর (আল্লাহর) মহিমাম্বিত মাহবুব গাউসুল আ’যম, নৈকট্য লাভকারীদের সর্দার, কামিলীনদের সর্বসার সত্তা, খোদা অন্বেষণকারীদের সন্নিবেশ কেন্দ্র, খোদার সান্নিধ্যগামীদের আশ্রয় কেন্দ্র, দৃঢ়চিত্তদের জন্য হিদায়তের বাস্তব দলিল, আল্লাহর নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত এক অত্যুজ্জ্বল নিদর্শন, আল্লাহর অসীম নূরের উজ্জ্বল দীপ্তালোকের উৎস, উভয় জগতের সর্দার, আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা লাভকারীদের শিরতাজ, বিশ্ব দিশারী, আল্লাহর বন্ধুদের গৌরব, যুগের সৃষ্টিকূল সেরা, জগতকূলের রহমত, নিরাপত্তার ছায়া, রব্বুল আলামীনের অনন্ত নূর লীলার বিকাশস্থল, পূর্ণদৃঢ়তায় অবস্থান লাভকারীদের জন্য তাওহীদের ক্বিবলা, তাঁর অবয়ব জগতবাসীর জন্য এমনই আয়না যাতে আল্লাহর অপরূপ দর্শন মিলে, যদ্ধারা গোমরাহীর অন্ধকার বিদূরিত এমনই পূর্ণশশীর আবির্ভাব যিনি, পূণ্যবানদের সর্দার, অপরিসীম মর্যাদায় মহিমাম্বিত গাউসে মাইজভাণ্ডার হন সর্বব্যাপী দয়া-অনুগ্রহ দানের আকর।
গুণগান আছে তান মশহুর জাহানে,
কি বলিতে পারি আমি সেবক অধীনে।
সমাদরে আম খাছ লোকগণ তরে,
প্রভু নিরঞ্জন পন্থে হিদায়ত করে।
মেহের নজর করে যাহার উপর,
প্রেমের অনলে দহে তাহার অন্তর।”
হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী (রাদ্বি.)’র সান্নিধ্যে গিয়ে তাঁর কী অসীম সৌভাগ্য অর্জিত হয়েছে তা উপলব্ধি করা যায়, উপরোক্ত বিবৃতিসমূহের আলোকে। হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী (রাদ্বি.)’র যে পরিচিতি তিনি তুলে ধরেছেন সেরূপ পরিচিতি লাভের মহা সৌভাগ্যেরও কোন সীমা-পরিসীমা থাকার কথা নয়। ‘জগতকুলের রহমত-রহমতুল্লিল আলামীন’ পরিচিতি তুলে ধরা মর্মে- নবীবর মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা’র ‘বাতিন অবয়বের’ পরিচয় যিনি লাভ করেছেন, আল্লাহর মহিমাম্বিত মাহবুব গাউসুল আ’যমকে যিনি চিনেন, ‘সর্বব্যাপী দয়া-অনুগ্রহ দানের আকর’ যিনি চিনেন এবং ‘আল্লাহর অপরূপ দর্শন মিলে এমন আয়নারূপী অবয়ব’ যিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ইত্যাদি; তাঁর অর্জিত মহাসৌভাগ্য বর্ণনাতীত অসীমই।
তাঁর মহা সৌভাগ্যের আরো অর্জন ‘তোহ্ফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ আছে-
“যখন হইল এই কেতাব তামাম,
তোহ্ফাতুল আখইয়ার রাখিলাম নাম।
তার পরে আমি এই কিতাবের তরে,
ভয় পরিহারি হজরতের হুজুরে।
আদবের সাথে তাহা পড়িলাম কিঞ্চিত,
হজরত শুনিয়া তাহা মন হরষিত।
দোয়া করিলেন মোরে করিয়া আদর,
তাহার উপরে করি খোদার শোকর।
এইক্ষণ হজরত গাউসে মাইজভাণ্ডার,
আদরেতে খুলিছেন প্রেমের ভাণ্ডার।
নছিব যাহার ভাল সেই লোক তরে,
দপ্তরে দাখেল করেন কৃপা সমাদরে।
সেই দপ্তরের লোকে না কর ইনকার,
বুঝিতে নারিবে কভু হাল তাহারার।
বাতেনি ইলেম নাহি যেই জন দিলে,
ইশক কারে বলে নাহি জানে কোন কালে।
সে ইলেম জানিবারে কোসেস করিবে,
 ইশক মুহাব্বত পন্থে গমন করিবে।”
বুঝা গেল এ পর্যায়ে তিনি হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আদরের পাত্র বৎসল দোয়া লাভ করেছেন, প্রেমাস্পদের প্রেমের ভাণ্ডার উম্মুক্ত প্রেমাদর লাভ করেছেন, ভাল নসীবের অধিকারী হয়েছেন, সে দপ্তরে দাখিল হওয়া মাত্র যে কেউ ভাল নসীবের অধিকারী হয়ে যান মর্মীয় জ্ঞান লাভ করেছেন, অন্তরে এমন ‘ইলমে বাতেন’ লাভ করেছেন যদ্ধারা খোদা প্রেমের স্বরূপ দর্শনের চাক্ষুষ জ্ঞান লাভ ঘটেছে। তদূপরি উক্তরূপ জ্ঞান লাভের পথে অন্যকে আহ্বান করার যোগ্যতাও অর্জিত হয়েছে।
এ মর্মে হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী (রাদ্বি.)’র একটি বাণী স্মরণে উঁকি দিচ্ছে যে, ইরশাদ হচ্ছে- ‘আমার আমিন মিঞাকে আমার ছয়টি কেতাব হইতে একটি দিয়াছি’ (বেলায়তে মোতলাকা, দ্বিতীয় সংস্করণ-৫০ পৃ:)।
এখানে সম্বোধিত ‘আমার আমিন মিঞা’ মর্মে যেই নৈকট্য প্রতিভাত হয়, পরিভাষায় তা ‘আহলে বাইত’র পর্যায়ভুক্তই বুঝা যায়; দৃশ্য জাগতিকভাবে তিনি ‘আহলে বাইত’ না হওয়া সত্ত্বেও। আর ‘কিতাব’ এর মধ্যে জ্ঞান এমনভাবে সংরক্ষিত থাকে যা হতে যুগযুগান্তর আবহমান জ্ঞানার্জন করা যায়। এখানে ‘হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী (রাদ্বি.)’রই কিতাব’ মর্মে- তাঁরই জ্ঞান অর্জন-বিতরণের অন্যতম মাধ্যমই প্রতিভাত হন, গাউসে যমান কুত্ববে দাওরান আল্লামা ফরহাদাবাদী (রাদ্বি.)।
এ মর্মীয় শানে কবি আল্লামা বজলুল করিম মন্দাকিনী গেয়ে উঠেন-
মাওলানা আমিনুল হক ফরহাদাবাদ বাসী,
উজ্জ্বল করিলেন দেশ পাপের তিমির নাশি।
মনগুরু কল্পতরু, সর্বপূজ্য ধর্ম গুরু,
জ্ঞানের গগনে যেন ভাসিয়াছে পূর্ণ শশি।
বিদ্যার সাগর বটে, জ্ঞানের তটিনী তটে,
জ্ঞানদানে রত হয়ে, সর্বদা রয়েছেন বসি।
জ্ঞান ভিক্ষা নিতে কত-নরনারী শতশত,
দীক্ষা সূত্রে বদ্ধ হয়ে হয় তাঁর দাসদাসী।
মাইজভাণ্ডারীর দত্তধন করছেন সদা বিতরণ,
যত ছাড়ে তত বাড়ে অফুরন্ত ধনরাশি।
ধর্মগুরু কর্মনেতা সুহৃদয় দয়াল দাতা,
দর্শনে তাপিত প্রাণ, আনন্দেতে যায় ভাসি।
সমাজে আনিলেন শান্তি- নাশি লোকের ভুল ভ্রান্তি,
রচনা করিয়ে কত ধর্মগ্রন্থ রাশি।
সুপ্রসিদ্ধ কাজী বংশ- হয়ে ছিল প্রায় ধ্বংস,
পুনর্জীবন দিয়াছেন তিনি ইহলোকে আসি।
অধীন করিম হীন অনুগত অনুদিন,
স্মরণ রাখিও বাবা আমি তোমায় ভালবাসি।
সুলতানুল আউলিয়া ওয়াল আসফীয়্যাহ্ ওছিয়ে গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী (রাদ্বি.)’র বর্ণনা সূত্রে- “চট্টগ্রামের অন্তর্গত হাটহাজারী থানার ফরহাদাবাদ গ্রাম নিবাসী অলিয়ে কামেল মাওলানা আমিনুল হক ফরহাদাবাদী (রা.) ছাহেব একজন জবরদস্ত মহান কামেল আলেম ও ইসলামী বিধান শাস্ত্র বিশারদ মুফতী ছিলেন। তাঁহার ফতোয়া সুদূর মিশর দেশে ‘জামেউল আজহার’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমগণ কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছিল।
মাওলানা ছৈয়দ আব্দুল হামীদ বাগদাদী ছাহেব “হারম শরীফ” বা কাবা শরীফের বারান্দায় আরববাসীদিগকে তাঁহার পরিচয় দিতে গিয়া তাঁহার ডান হাত ধরিয়া বলিয়া ছিলেন, ‘এই সরু হাতগুলি হাড়ের নহে; হীরার বলা যাইতে পারে। তাঁহার লিখার মধ্যে হীরার ধার আছে। বাংলা মুলুকে এইরূপ লায়েক আলেম আমি দেখি নাই। যদিও কোন কোন মছায়লাতে আমি তাঁহার সহিত একমত নহি’।
হজরত কেবলা তাঁহার শানে বলিয়াছিলেনঃ- আমার আমিন মিঞাকে আমার ছয়টি কেতাব হইতে একটি দিয়াছি। জনাব মওলানা আমিনুল হক ছাহেব লিখিত “তোহফাতুল আখ্ইয়ার” নামক কেতাবের ফতোয়াতে গাউছুল আজম জনাব হজরত কেবলা স্বয়ং দস্তখত করিয়া ছিলেন। এবং আল্লাহ তায়ালার মকবুলিয়তের জন্য মোনাজাত করিয়া দোয়া করিয়াছিলেন। তাঁহার কলব মোবারক সদা সর্বদা খোদার জিকিরে জাকের বা জারি থাকিত। যাহারা তাঁহাকে দেখিয়াছেন তাঁহারা নিশ্চয় অবগত আছেন, তিনি নেহায়ত সাদাসিদা প্রকৃতির দীনদার কামেল মোত্তাকী আলেম ছিলেন”। (বেলায়তে মোতলাকা, ২য় সংস্করণ ৫০ পৃ:)।
তাঁর অভিধা ও প্রশংসায় ইমামে আহলে সুন্নাত গাযী-এ দ্বীনোমিল্লাত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আযীযুল হক শেরে বাংলা আল্ ক্বাদেরী (রহ.) তদীয় দীওয়ান-ই আযীয এ উল্লেখ করেন- (ভাষান্তরে) “জ্ঞানী-গুণীজন অনুসৃত ইমামুল ওলামা, আরিফকুল গৌরব, অপরাজেয় মোনাযির সরদার, শীর্ষ ইসলামী শাস্ত্রবিদ, উত্থাল জ্ঞান সাগররূপী আলিমে দ্বীন, সাড়া জাগানো জ্ঞানী-গুণী সত্তা, সুতীক্ষ্ণধী বিশিষ্ট জ্ঞানীজন, সুগভীর জ্ঞান সম্পন্ন ইসলামী কর্ণধার, প্রসিদ্ধ পীর-মাশাইখগণের আশ্রয় কেন্দ্র, পরিণামদর্শী তত্ত্বজ্ঞানীদের সনদ, সূক্ষ্মদর্শী জ্ঞানীজনদের শিরতাজ, লিখনী ও গ্রন্থণার কলম সম্রাট, পরবর্তীদের জন্য অনূসৃত দলিল, উর্ধ্বতনভুক্ত অনুসৃত সত্তা, শায়খুল ইসলাম হযরতুলহাজ্ব আল্লামা শাহ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী আলাইহি রাহমাতু রাব্বিহিল বারী হলেন এমন এক পবিত্র নাম, যাঁর সত্তার বদৌলতে চট্টগ্রামবাসীদের মর্যাদা অর্জিত হয়। ক্ষুরধার লিখনী এবং গ্রন্থরাশি রচনায়ও তিনি ছিলেন যুগান্তকারী গৌরব। তিনি হন খোদার পরিচয় লাভকারী এক পরিপূর্ণ কামিল-মুকাম্মিল সত্তা এবং খোদার সান্নিধ্যগামীদের অনুসৃত পেশোয়া বা ধর্মগুরু। তিনি ‘মহান নি’মাত’ সুন্নীদের জন্য; প্রাণ সংহারক বিষই কিন্তু ওহাবীদের জন্য। তিনি সুন্নীদের জন্য ‘কিবরী-তে আহমর’ অর্থাৎ ‘লালগন্ধক’ তথা পরশ পাথর তৈরীর মূল উপাদানও। ফিরআউন যুগের হযরত মূসা (আ.) তুল্যই ছিলেন তিনি ওহাবীদের বিপরীতে। মৌলভী ফয়যুল্লাহর অন্তর দাগি পুস্প হেন ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিলো- যখন ঐ স্বনামধন্য সত্তা তার খন্ডনে ‘শাওয়াহিদুল ইবত্বালাত’ কিতাব রচনা করেন। জ্ঞানী গুণীজনদের অনুসৃত এ ইমাম আল্লাহর পরিচয় লাভকারীগণের গর্বমুকুটও; তাঁর মতো সূক্ষ্ম পরিণামদর্শী তত্ত্বজ্ঞানী বিশ্বময় আমি কখনো দেখিনি; নিঃসন্দেহে তিনি সুন্নীদের জন্য ‘রুকনে আ’যম’ তথা প্রধান স্তম্ভ-অবলম্বন। ফরহাদাবাদে তাঁর নূরানী রওযা শরীফ বিদ্যমান, তাঁর সত্তার বদৌলতে সর্বদা মানুষেরা পরিপূর্ণ ফয়যপ্রাপ্ত হয়ে চলছে। নিঃসন্দেহে বাগে আহলে সুন্নাতের এ ফুল সম্ভার সুগন্ধি ছড়িয়ে সমগ্র জগত মাতোয়ারা করে দিয়েছে।”
এতে করে সারা জগতবাসীর যিনি অনুসৃত-অবলম্বন, সর্বপূজ্য ধর্মগুরু, কর্মনেতা-সুহৃদয় দয়াল দাতা ইত্যাদি প্রশংসায় প্রশংসিত হন, হযরত গাউসুল আ’যমের আদরের আমিন মিঞা ও অন্যতম কিতাব খেতাবে বিভূষিত হন; তিনিই নিজ ভাষায় হযরত গাউসুল আ’যমের ‘সেবক-অধীন’। এতে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের অপরিসীম মহান শরাফত-মহত্ত্বের সুউজ্জ্বল দীপ্তালোক যেমন উদ্ভাসিত, তেমনি সকল অনুসারীদের জন্য শিক্ষনীয় হিদায়াতালোকও প্রদর্শিত।