খেলাটা ঠিক কবে শুরু হয়েছে, কে জানে।যতক্ষণ ধরে দেখছি, একটা গোলও হতে দেখলামনা। বল দখলের নয়, বরং ফাউলের প্রতিযোগিতাই চলছে অবিরাম; কিন্তু রেফারির বাঁশি বাজছেনা! সবাই কি আশ্চর্য হলেন? আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই, মাঠটি যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সেখানে রেফারি নিয়োগের নিয়মই নেই।
আবাক বিস্ময়ে ভাবছি, রেফারি নেই ঠিক আছে, কিন্তু খেলোয়াড়দের বিবেক গেল কোথায়? কোন কোচ কি নিজের শিষ্যদের এমন খেলা শেখাতে পারে? মন দৃঢ়তার সাথে বলল, না,পারেনা। মনকে জিজ্ঞাসা করলাম এত দৃঢ়তার সাথে যে বলছো, তোমার কাছে কি কোন প্রমাণ আছে? অনুচ্চ স্বরে বলল,চাক্ষুস প্রমাণ নেই তবে কিছু যুক্তি আছে। কর্ণ পেতে শুনলাম তার যুক্তি। সে বলে চলল, যে কোন কোচ পরিপূর্ণ দু’পয়েন্ট কিংবা ন্যূনতম এক পয়েন্ট চাইবেই, ম্যাচ থেকে বহিষ্কার কিংবা খেলোয়াড়দের পঙ্গুত্বতো তার কাম্য হতেই পারেনা। ——–এদের খেলায় একটা জিনিস অত্যন্ত পরিষ্কার যে, কেউই নিজ দলের জন্য খেলছেনা। তারা দু’মুখো শয়তানের ট্রাপে পা দিয়েছে নিশ্চয়। শয়তানগুলো এদের দিয়ে নিজেদের জয় অবারিত করার স্বপ্ন দেখছে।
অ-হ্যাঁ, অতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুন্নীদের পারস্পরিক বিতাণ্ডার কথাই আমি বলছি। তাদের পারস্পরিক ল্যাং মারামারি আর পঙ্গুত্ব বরণের প্রতিযোগিতা দর্শক গ্যালারিতে বসে দেখছি এবং ভাবছি, সত্য প্রতিষ্ঠার যুগ-যুগান্তের প্রতিষ্ঠিত পন্থা যৌক্তিক বিতর্কের পথ পরিহার করে এরা কেন বিধ্বংসী বিতাণ্ডায় মেতেছে? কিছু মুখোশপরা দু’মুখো শয়তানের অস্পষ্ট চেহারা ভেসে ওঠল চোখের সামনে। ওদের পরিচয়ে অস্পষ্টতা থাকলেও মতলব কিন্তু সুস্পষ্ট: এরা সুন্নীদের পঙ্গু করে,ম্যাচে নিষিদ্ধ করে মাঠ নিজেদের দখলে নেওয়ার ফন্দি এটেছে।

ওইসব দু’মুখো শয়তান কারা? নিশ্চিতভাবে পরিচিহ্নিত করার দায়িত্ব দিলাম, কিছু তরুণ ফেবু মাষ্টারদের। তারা স্বল্প সময়ে অনুসন্ধানি প্রতিবেদন দেন আমাকে। তাদের সঙ্গে নিয়ে যাছাই করে নিশ্চিত হলাম পরিচয়, চিনে গেলাম মুখোশাবৃত্ত মুখগুলো।

আসুন চিনে নিই, ওরা কারা? পীরের সবক আর মূর্তিপূজায় তফাৎ কি প্রশ্নকারী পীর, দুই উরুর মধ্যখানে লুকানো ঝুড়ি মজলিসে ছুড়ে মেরে বেহেস্তী মেওয়া খাওয়ানোর বানোয়াট কারামত প্রদর্শনকারী বুযুর্গ, উপমহাদেশে ওহাবী ভাবধারার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতা ওহাবীয় মু’মিনদের আমিরুল মু’মিনীন, আফগান মুসলিমদের রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠা মুজাহিদ বাহিনীর আমিরুল মুজাহিদীন, নামাযে রসূলুল্লাহ (দ.)’র ধ্যান আপন গরু-গাধার খেয়াল অপেক্ষাও মন্দতর বচনের প্রবক্তা সৈয়দ আহমদ বেরলভী ভুক্ত সিলসিলার ভক্ত-শিষ্যরাই সে মুখোশ পরা দু’মুখো শয়তান।

তাদের ওই স্বপন কখনো হবেনা বাস্তবায়ন। তারা একূল ওইকূল দুই কূলই হারাবে। হাদীসে পাকের ভাষায়: হযরত আবূ হুরায়রাহ (রা.) বর্ণণা করেন, রসূলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেন, “ক্বিয়ামত দিবসে তোমরা নিকৃষ্টতর মানুষ রূপে পাবে দু’মুখোকে: যে এদের কাছে আসে এক রূপে, ওদের সাথে মিশে আরেক মুখে” মুত্তাফিক্বুন আলাইহি, মিশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল আদাব, বাবু হিফযিল লিসানি ওয়াল গীবতি ওয়াশ শতমি ৪১১ পৃষ্ঠা।

তারা সফল হবেনা তা ঠিক, কিন্তু তাদের ট্রাপে পা দিয়ে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করতে বসেছে, অন্যের বাবাকে গালি দিয়ে প্রকারান্তরে নিজের বাবাকে গালি দেওয়ার মাধ্যমে কবীরাহ গুনাহ বা মহাপাপে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের সতর্কতা সাবধানতা তথা ঐ হীনকর্ম বর্জনতো জরুরি।
হাদীসে পাকের ভাষা: “কোন ব্যক্তির তার পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া অন্যতম মহাপাপ। সাহাবা-ই কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, কেউ নিজ পিতা -মাতাকে গালিও দেয় নাকি আবার? ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ দেয়, সে অন্যের বাবাকে গালি দেয়; অতএব ওই ব্যক্তিও তার বাবাকে গালি দেয়, সে অন্যের মাকে গালি দেয়, সুতরাং ওই ব্যক্তিও তার মাকে গালি দেয়”। মুত্তাফিক্বুন আলাইহি, মিশকাতুল মাসাবীহ,কিতাবুল আদাব,বাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ৪১৯ পৃষ্ঠা।

এ গালি শুধু জন্মদাতা বাবার বেলায় নয় বরং পীর, উস্তাদ, নেতা ও হুযূর বাবাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি যদি অন্যের পীর, উস্তাদ, নেতা ও হুযূরকে গালি দেন, সেও আপনার পীর, উস্তাদ, নেতা ও হুযূকেন এ  রকে গালি দেবে নিশ্চয়; হাদীসের ভাষ্য মতে এ গালি অন্যে দিচ্ছেনা,আপনিই দিচ্ছেন।

(আল্লামা বোরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর এর ফেসবুক ওয়াল হতে)