কবরে ৭ বছরাধিক পরও সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় দেখা গেল
হাদীয়ে যমানের মুরীদাহ্-ভ্রাতুষ্পুত্রী সকিনা খাতুন (রহ.)’র কাফনবেষ্টিত লাশ।

লেখকঃ হযরতুল আল্লামা মাওলানা এস এম জাফর ছাদেক আল আহাদী

 

হারুয়ালছড়ি দরবার শরীফের প্রাণসত্তা হাদীয়ে যমান গাউসুল ওয়াক্ত হযরতুল আল্লামা মাওলানা#কাযী_সৈয়্যদ_হারূনুর_রশীদ (রাদ্বি.)’র মুরীদাহ্-ভ্রাতুষ্পুত্রী মরহুমা সকিনা খাতুন রাহমাতুল্লাহি আলাইহা ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তিকাল করেন। তাঁকে চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নস্থ কারন সিকদার পাড়ার বাকর আলী তালুকদার বাড়ী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

৫ ফেব্র“য়ারী ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে মৃত ছালেহ্ জহুর প্রকাশ বাদশা (মরহুমার দেবর)কে একইস্থানে কবরস্থ করার উদ্দেশ্যে কবর খনন করছিলেন. মুহাম্মদ গোলাফুর রহমান গোলাফ, পিতা: মৃত সৈয়দ আহমদ এবং ২. মুহাম্মদ এখলাছ উদ্দিন প্রকাশ শাহাবু, পিতা: মৃত ফয়েজ আহমদ, সর্বসাং- বাকর আলী তালুকদার বাড়ী, কারন সিকদার পাড়া, পাইন্দং, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

খননের এক পর্যায়ে কাফনের সাদা কাপড় দেখা গেলে গোলাফ ভয় পেয়ে উপরে উঠে যায়। নির্ভীক শাহাবুর মনস্থ হল, কাফনের ভিতর থাকলেও হাড়গোড় ছাড়া কিছু থাকবেনা এবং কাফনসহ সেগুলো এক পাশে রেখে দিয়ে মৃত বাদশাকে দাফন করা যাবে। এ মনস্থ করে যখন কফিনের উপরস্থ সম্পূর্ণ মাটি সরিয়ে নিলেন, তখন দেখা গেল কাফনের কাপড় একেবারে নতুনের মতোই রয়ে গেছে এবং কাফন ধরে টানলেও না আসাতে বুঝতে পারল, সেখানে হাড়গোড় নয় বরং অক্ষত লাশই বিদ্যমান। উক্ত কবরখননকারী একই বাড়ীর বাসিন্দা এবং ৭ বছরাধিক পূর্বেও সেখানে কবর খনন করেছিলেন বিধায় নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করতে পারলেন যে, এটি মরহুমা সকিনা খাতুনেরই অক্ষত লাশ। অতঃপর মনে জাগল যে, মহিলার লাশ খুলে নিজে দেখা কিংবা অন্যকে দেখানো ঠিক হবে না। ইতোমধ্যে গোলাফসহ উপস্থিত লোকজন মারফতে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চতুর্দিক থেকে লোকজন আসতে থাকায় আর দেরী না করে আবার মাটি ভরাট করে দিলেন।

জ্ঞাতব্য যে, মরহুমা সকিনা খাতুন (রহ.) ইন্তিকালের পূর্বে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে হাদীয়ে যমানের নিকট এসে বাই‘আত গ্রহণ করতঃ আবেদন করেছিলেন যে, অসুস্থাতায় তাঁকে দেখাশুনা করার মত আপনজন বলতে বাড়ীতে তেমন কেউ নেই। সালমা (পালকপুত্রী) থাকে তার শাশুড় বাড়ীতে এবং সৎপুত্র আর কত দেখাশুনা করবে। এরূপ আবেদনের প্রেক্ষিতে ২/৩ দিনের মধ্যে সে সুস্থ সবল হয়ে উঠলে বাড়ী চলে যায়। অতঃপর তার অসুস্থতা আবারো দেখা দিয়ে আগের তুলনায় আরো বৃদ্ধি পেতে থাকলে বাড়ীস্থ সবাই তাচ্ছিল্য করে বলতে লাগল যে, মাইজভাণ্ডারী পীরের নিকট বাই‘আত গ্রহণ করার কারণে রোগ আরো বেড়ে গেল তো! এমতাবস্থায় অল্পদিনের মধ্যে তিনি ইন্তিকাল করতঃ চির সুস্থতারও উর্ধ্বে চির শান্তি লাভে ধন্য হন। তাই ৭ বছরাধিক পর কবরে অক্ষত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাওয়ার সংবাদ বহন করে সালমা বেগমও অজস্র কণ্ঠের সাথে সুর মিলিয়ে বলেন হ্যাঁ, এটা হাদীয়ে যমান গাউসুল ওয়াক্ত হযরতুল আল্লামা কাযী সৈয়্যদ হারূনুর রশীদ (রদ্বি.)’রই চির অম্লান শান; যার বদৌলতে মরহুমা সকিনা খাতুনও লাভ করতে পারল এমন শান; যা যুগ-যুগান্ত ধরে ধারাবাহিক প্রমাণিত হতে থাকা মাইজভাণ্ডারীগণের মহান শানেরই অন্যতম সমুজ্জ্বল দীপ্তি।

তথ্যসূত্রে:
১. সালমা বেগম, মরহুমার পালক কন্যা
২. মুহাম্মদ গোলাফুর রহমান গোলাফ, পিতা: মৃত সৈয়দ আহমদ
৩. মুহাম্মদ এখলাছ উদ্দিন প্রকাশ শাহাবু, পিতা: মৃত ফয়েজ আহমদ
সর্বসাং- বাকর আলী তালুকদার বাড়ী, কারন সিকদার পাড়া, পাইন্দং, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
৪. মুহাম্মদ শওকত আলী, পিতা: মুহাম্মদ সোলাইমান, পাইন্দং, ফটিকছড়ি।
৫. তৈয়বা খাতুন (পাখী), পাইন্দং, ফটিকছড়ি।
৬. মোহছেনা বেগম (বাঁশি), পিতা: মৃত আবুল কাসেম, হারুয়ালছড়ি, ফটিকছড়ি। (মরহুমার ভ্রাতুষ্পুত্রী)
৭. মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিতা: মুহাম্মদ নুরুচ্ছাফা, হারুয়ালছড়ি, ফটিকছড়ি।